:: Daily Shomoy ::
ঢাকা, শুক্রবার ১৮ মে ২০১২ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৩ রেজি নং, ডিএ ৫০৩৫
প্রথম পাতা প্রথম কলাম শেষ পাতা শেষ কলাম সংবাদ ভিনদেশ কৃষি শিল্প বাণিজ্য খেলার সময় সংবাদ উপ সম্পাদকীয় সম্পাদকীয় পুরানো সংখ্যা
 AwRËKk Mki Lgk
বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ খায়রুল কবির খোকন গ্রেফতার
দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপি
নাইজেরিয়ান অভিনেত্রীর পেটে
হরতাল সফল নজরুল ইসলাম খানের দাবি
হরতাল ডাকে বিএনপি সফল করে পুলিশ
বিএনপির ওজন জেনে গেছে সরকার
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
আগামীকাল বিএনপি এমপিদের অনশন
সংঘাত এড়াতে উদ্যোগ চায় ব্যবসায়ীরা
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রভাবমুক্ত ভাবে কাজ করছে: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
'বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করছে সরকার'
ঢাকা এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে যুক্ত হবে
৩৩তম বিসিএসের আসন বিন্যাস
প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলন
ওয়াংখেড়েতে অবাঞ্চিত শাহরুখ
জাবি'র নতুন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার
প্রথম পাতা


বিএনপির হরতাল চলাকালে গতকাল নয়াপল্টনে কেন্দ ীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকনকে আটক করেছে পুলিশ (বায়ে) এবং নেতাকর্মীরা পুলিশ ব্যারিকেটের ভেতরে বিক্ষোভ করে _বাংলাদেশ সময়

গতকাল বিএনপির হরতাল চলাকালে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার চিত্র _বাংলাদেশ সম

বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ
রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ
খায়রুল কবির খোকন গ্রেফতার



ফায়দা লুটছে কারা?


সিদ্দিকুর রহমান
সংলাপের আলাপ বরবাদ হয়ে গেছে। সংলাপ বানচালের নেপথ্য শক্তি আপাতত জয় পেয়েছে। দুই দলেরই দ্বন্দ্বকে সমাবেশ, সেমিনার, টক শো থেকে রাজপথে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে ওই নেপথ্য শক্তি। তারা সংলাপের বস্তুনিষ্ঠ আলাপকে রাজপথে আনতে সক্ষম হয়েছে। রাজপথ থেকে তা আবার গড়িয়েছে আদালতে-কারাগারে। এরপর কোথায় গড়াবে, কি পরিনতি হবে, তার সমূহ পরিনতি শঙ্কিত হবার মতো।
সম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা মানুষের নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ সময়টাতেই সামনে চলে আসে সংলাপ প্রসঙ্গ। দেশ-বিদেশ থেকে সংলাপের চাপ বাড়তে থাকে। নানা বাদানুবাদের মধ্য দিয়ে এক পর্যায়ে সংলাপের সম্ভাবনাও উঁকি দেয়। দূরবর্তী অবস্থান থেকে এক ধরণের অনানুষ্ঠানিক সংলাপ চলতে থাকে। সরকারি দলের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলের বিরোধী দলের দায়িত্বশীল মহল থেকেও জবাব আসতে শুরু করে। কোনো সমাবেশ, সেমিনার, মানববন্ধন বা টিভি চ্যানেলের টক শোতে এক দলের কেউ বক্তব্য দিলে পরক্ষণেই অন্য দল থেকেও বক্তব্য আসতে থাকে। যা প্রকারান্তরে এক ধরণের সংলাপের মতোই। লক্ষণ শুভ মনে হতে থাকে। সংলাপের একটি শুভ আলামতের বিপরীতে চলতে থাকে সংলাপ তথা স্থিতিশীলতা নষ্টের একটি নীরব তৎপরতা। সেই তৎপরতার আয়োজকরা আপাতত জয়ী হয়েছেন। এতে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে জনমনে এ প্রশ্ন খুব জোরালো হয়ে উঠেছে। এর পরিনতিতে সরকার, বিরোধী দল বা নেপথ্য শক্তির কে লাভবান হবে এ প্রশ্নও আছে। জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর আন্দোলনের রাজনীতির যে ব্যাপকতা দেখা দিয়েছে তা কিসের আলামত এবং লাভজনক হবে তা কার জন্য সেই বিষয়টি স্মরণ করতে দুই দলের নীতি নির্ধারকদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। এতে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ীসহ নানা মহলে।
এ উদ্বেগের বিষয়টি ধারণ করে এরইমধ্যে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে পুনরায় ওয়ান-ইলেভেনের আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন অভিভাবক প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ বলেছেন, নাশকতার মামলাকে বিপক্ষ দলকে শায়েস্তা করার হাতিয়ার শুভফল বয়ে আনবেনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন খান বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিপক্ষ দলকে ঘায়েল করার রাজনীতি থেকে সরে না এলে তার পরিনতি হবে দু'দলের জন্যই দুঃখজনক।
বাম সংগঠন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জোট-মহাজোটের সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতিতে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া বিষয়েও কোনো কুল-কিনারা হয়নি। রাজনীতির কোটারি স্বার্থে জোট-মহাজোটকে সংঘাতের দিকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বলেন, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা তার বোধগম্য হচ্ছে না।


দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারাদেশেই নাস্তানাবুদ হয়েছে বিরোধী দল বিএনপি। কোথাও দাঁড়াতেই পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। দলগত-জোটগত দৈণ্যদশাই ফুটে উঠেছে। সকাল-সন্ধ্যা হরতালে চরম দুর্দশাগ্রস্থ ছিলো ১৮ দলীয়রা। র্যাব পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাপটে এরা রাস্তায়ও নামেনি সেভাবে। হরতালে রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। হরতাল শুরু হওয়ার আগে থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রাখে পুলিশ। সকালে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকনসহ ৩ জনকে আটক করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। পুলিশের হামলায় সেখানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
সকাল সাড়ে ৮টায় মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশনের সামনে ৪টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকে। ৩ যুবক পর পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ এসে ধাওয়া করে। পুলিশী আতঙ্কে আশপাশের কোন পিকেটার রাস্তায় দাঁড়ায়নি। মিরপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ২টি ককটেল বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করেছেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সায়েদাবাদ এলাকায় একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি যাত্রাবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়ে। পুলিশ মিছিলকারীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশ এ সময় মিছিল থেকে ১০ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে।
সকাল ৯টার দিকে মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনির সামনে ছাত্রদলের একটি মিছিল বের হয়। এ সময় মিছিলকারীরা প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও বায়তুল মামুন জামে মসজিদ মার্কেটের চার-পাঁচটি দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ধাওয়া করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নয়টা বিশ মিনিটে খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার স্কুল এন্ড কলেজের সামনে আরেকটি মিছিল বের করে ২৩ নং ওয়ার্ড যুবদল। ১৫-২০ জনের এই মিছিল থেকে ময়ুরী পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এরপর পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রদল কর্মীরা খিলগাঁও রেললাইনের দিকে চলে যায়। এই সময় আলমগীর ও আবুল কালাম নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ।
সকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করে পিকেটাররা তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে। সকাল সোয়া ৬টার দিকে একদল যুবক বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনটি গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকেটাররা পালিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকার হোটেল আল-আরাফা'র সামনে বলাকা পরিবহনের একটি বাস ভাংচুর করে পিকেটাররা। বাসটি সায়েদাবাদ থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে কয়েক যুবক বলাকা পরিবহনের সামনের গ্লাসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বাসের সামনের গ্লাসটি ভেঙে যায় এবং বাসের কয়েকজন যাত্রীসহ চালক আব্দুল ওয়াহিদ ও হেলপার রফিকুল ইসলাম আহত হন।
রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বিএনপির এমন দুর্দশা তারা কখনো দেখেননি।


নাইজেরিয়ান অভিনেত্রীর পেটে
কোটি টাকার কোকেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর একটি হোটেল থেকে নাইজেরিয়ান এক অভিনেত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। তার নাম বেটসি (৩২)। তার পেটের ভিতর থেকে বিশেষ কায়দায় কোটি টাকা মূল্যের কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী থানার এসআই আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে গত বুধবার রাত বনানীর এ ব্লকের ১৮ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত হোটেল প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনালের ৬০১ নম্বর কক্ষ থেকে বেটসিকে গ্রেফতার করে। এসময় বেটসি পুলিশকে কোকেন ভর্তি দুটি ক্যাপসুল দেখায়। বাকিগুলো বিশেষ কায়দায় পেটের ভিতরে রেখে দেয়। কিন্তু পেটে লুকিয়ে রাখা কোকেনের কথা স্বীকার করেনি। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেটসি জানায় তার পেটে কোকেন আছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে বেটসির পেট থেকে বিশেষ কায়দায় ৩৮টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। এসব ক্যাপসুলের মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত কোকেনের মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।













হরতাল সফল
নজরুল ইসলাম খানের দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ দলীয় জোটের ডাকা গতকালের হরতালকে সফল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করে বলেন, সরকারের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে তারা দুর্বল হয়ে গেছে। বিরোধী দলকে ভয় পাচ্ছে। সেজন্য বিরোধী দলের ওপর দমন নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খোকনের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, খোকনকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি কার্যালয়ের সামনে কথা বলছিলেন, স্লোগান দিচ্ছিলেন। তিনি (খোকন) তো কোনো গাড়ি ভাংচুর করেন নি। আগুন লাগান নি। তাহলে কেনো তাকে গ্রেফতার করা হলো। পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর ওপর পুলিশ হাত উঠিয়েছে। তার গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেছে। এটা কি গণতন্ত্রের নমুনা। আমরা এহেন ঘটনার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি সরকারকে দমননীতির পথ থেকে সরে আসার আহবানও জানান তিনি।
পরবর্তি কর্মসূচি কি হবে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা দলীয় ফোরাম ও ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আজ (গতকাল) জোটনেত্রী তা ঠিক করবেন এবং আগামীকাল (আজ শুক্রবার) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, দলের দুই যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, বরকত উল্লাহ বুল, ঢাকা মহানগর মহাসচিব আব্দুস সালাম, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, মাহাবুবুল হক নান্নু প্রমুুখ।










হরতাল ডাকে বিএনপি সফল করে পুলিশ
ইকবাল হাসান ফরিদ
হরতাল ডেকেছিল বিএনপি। আর সফল করেছে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের তৎপরতায় ছিল লক্ষণীয়। এ কারণে আতঙ্কে ছিল বিএনপির পিকেটাররা। উৎকণ্ঠিত ছিলেন বিএনপি ছাড়াও সমমনা আরও ১৭ দলের নেতাকর্মীরাও। তবে কার্যকারিতা বিচারে হরতাল সফল হয়েছে। সকাল থেকেই দোকানপাট খুললেও ক্রেতা ছিল না। ফলে দোকানীদের লসের পাল্লাই ভারী ছিল। রাস্তায় দুয়েকটা বাসও চলাচল করতে দেখা গেছে। হরতালের ভোরে দলীয় কার্যালয়ে আসার ঝামেলা এড়াতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাত্রীযাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, মিজানুর রহমান মিনু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারি বাবু। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেউ ঢুকতে পারেননি। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে র্যাব-পুলিশ। রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল র্যাব পুলিশের ২৭ হাজার সদস্য। গতকাল ভোর থেকেই র্যাব, পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল রাজপথ। সকাল থেকে রাজধানীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছাত্রলীগও ছিল সরব। যেখানে পিকেটার দেখা গেছে। সেখানেই হানা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া ও ছাত্রলীগের কারণেই রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি পিকেটাররা।
সকালে যাত্রাবাড়ীতে হরতালের পক্ষে মিছিল বের করেছিল শিবির কর্মীরা। মিছিল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। পুলিশকে সহযোগিতা করে ছাত্রলীগ কর্মর্ীরা। এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, মতিঝিল, খিলগাঁও, মিরপুর, মহাখালিসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে। কোথাও হরতালের সমর্থনে পিকেটার চোখে পড়েনি। সড়কগুলোতে মাঝে মধ্যে দুই-একটি যান চলাচল করতে দেখা যায়। সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। তাছাড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ এবং র্যাব দলকে টহল দিতে দেখা গেছে। হরতালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোথাও কোথাও পুলিশের আধুনিক সরঞ্জাম জলকামান ও রায়টকার লক্ষ্য করা যায়।
হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে সারাদেশে এ হরতাল ডাকে ১৮ দলীয় জোট।






বিএনপির ওজন জেনে গেছে সরকার
হাসান মাহমুদ রিপন
তত্ত্বাবধায়ক পুন:প্রতিষ্ঠা বা ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার আন্দোলনে নেই বিএনপি। তাদের সেই আন্দোলন পর্যবশিত হয়েছে শীর্ষ নেতাদের ছাড়িয়ে আনার আন্দোলনে। কিন্তু ছাড়িয়ে আনার আন্দোলনে কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে তারা। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকার বুঝে-শুনেই এ অবস্থায় ফেলেছে তাদের। বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের শক্তি সামর্থ্য জেনেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিএনপির ওজন যা মাপার তা ভালোভাবেই মেপে নিয়েছেন গত কয়েকদিনে। তাদের পরিকল্পনা এগিয়েছে সেই অনুযায়ীই। আগপিছ ভেবেই নাশকতা মামলা দেওয়ার পর জেলে পাঠানো হয়েছে ১৮ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের।
বিএনপির দলে বিভক্তি, জোট সমন্বয়হীনতা ও শেষ অবধি মামলায় পড়ে শীর্ষ নেতাদের পালিয়ে থাকায় সরকারের কাছে বিএনপির দুর্বলতা জানার আর কিছু অবশিষ্ট থাকেনি। পাশাপাশি সরকার বিএনপির বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে। আর এসব বুঝতে পেরেই বিএনপিকে আর সুযোগ দিতে চায়নি সরকার। সরকারের কৌশলের কাছে বিএনপি ক্রমেই ধরশায়ী হয়ে পড়েছে। বিএনপির নেতারা এ অবস্থায় না আছেন ঘরে না আছেন রাজপথে। না যেতে পারছেন দলীয় কার্যালয়ে। আবার প্রতিবাদের বিকল্প কোনো পথও পাচ্ছেন না। চতুমর্ুখি চাপে-তাপে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংলাপ, ইলিয়াস ইসু্যর আন্দোলন ভুলে এখন ছাড়া পাওয়ার কান্নার পথ খুঁজছেন।






শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কমর্ীরা ধানমণ্ডিস্থ ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ&#

প্রথম কলাম




'দেশে ফিরে দেখলাম সারি সারি কবর'
নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার প্রায় ৬ বছর পর দেশে ফেরার সেই দিনটির স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাওয়া কেন্দ ীয় নেতাদের সঙ্গে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, যখন দেশে ফিরে আমার বাবা-মাকে দেখার কথা, তখন আমি দেখলাম সারি সারি কবর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের গুলিতে পরিবারের প্রায় সব সদস্যসহ নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার পাঁচ বছর নয় মাস পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দিনটিকে পালন করে আসছে 'শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস' হিসাবে।
১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার দিন প্রবল বর্ষণের মধ্যেও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে লাখো জনতার সমাবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন আমি ঠিকমতো কথাও বলতে পারি নাই। আমি কাঁপছিলাম। আমার পাশে পুরো বক্তৃতার সময়টায় আমাকে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন সাজেদা আপা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ১৫ আগস্টের ১৫ দিন আগে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। তখনও জানতাম না যে, ফিরে এসে কাউকে ফিরে পাব না। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারি নাই। জার্মানি থেকে দিলি্ল ফিরেও আশা ছিল, কাউকে হয়তো ফিরে পাব। তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার তাকে দেশে ফিরতে দেয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ফিরতে দেয়া হলো না। রেহানা তখন ছোট। ওর লেখাপড়া চালানোর মতো তেমন টাকা পয়সাও আমাদের ছিল না। ১৯৭৬ সালে ওকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেই। সেখানে তার বিয়ে হয়।
১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সাজেদা আপা মাঝে মাঝে বলতেন, রাজনীতিতে আসতে হবে। কিন্তু, আমি রাজি হই নাই। ড. কামাল হোসেন দিলি্লতে গিয়ে জানতে চান, আমি প্রেসিডিয়াম মেম্বার হবো কিনা। আমি তখন রাজি হই নাই। আমার কাছে জানতে না চেয়েই আমাকে পার্টি প্রেসিডেন্ট করা হয়। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাজেদা চৌধুরী আমাকে দায়িত্ব দেয়ার অনুরোধ করেন। আমিও আমার মনকে সেভাবে তৈরি করেছিলাম। ছোট বাচ্চাকে ফেলে মনকে শক্ত করে দেশে ফিরলাম।'






বিএনপি আইন মানে না: হানিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি মানেই হলো তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। কোনো গণতান্ত্রিক দল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দিতে পারে না। তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, এই হরতাল কার বিরুদ্ধে, সরকারের নাকি আদালতের সেটা জানতে চাই। গতকাল ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের পথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মামলায় চার্জশিট হয়েছে। সেখানে জামিন দেয়া না দেয়ার এখতিয়ার আদালত সংরক্ষণ করে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে। সুতরাং এভাবে হরতাল দেয়াটা অযৌক্তিক ও জনগণকে হয়রানি করা ছাড়া আর কিছুই না।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যে অভিযোগ করছেন রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই তাদের নামে মামলা করা হয়েছে-এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে বিএনপি নেতারা মিথ্যা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। হানিফ বলেন, বিএনপি নেতাদের নামে কোনো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি। তাদের এই মামলার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
হরতাল প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, শুধু শুধু হরতাল ডেকে জনজীবন বিপন্ন না করে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকুন।




হরতালেও চলবে ট্রাইবু্যনাল, পুলিশ পাবেন আইনজীবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
হরতালের রেশ পড়েছে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইবু্যনালেও। গতকাল ট্রাইবু্যনাল যথারীতি বসেছে। কিন্তু আসেননি আইনজীবীরা। এ অবস্থায় হরতালের দিনে হওয়ায় প্রয়োজনে পুলিশী নিরাপত্তা দিয়ে তাদের আদালতে আনার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল।
আইনজীবীরা আসতে না পারায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা কার্যক্রম গতকাল চলেনি। আদালত প্রথম সাক্ষীর জেরা ২০ মে পর্যন্ত মুলতবি করেছেন।
হরতালের মধ্যে আসামির আইনজীবীরা কেউ আদালত কক্ষে আসেননি। তবে আদালতের বাইরে দু'এক জনকে দেখা গেছে। তারা যেন হরতালের মধ্যেও ট্রাইবু্যনালে আসতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনে তাদের পুলিশী নিরাপত্তা দিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন বিচরপতি নিজামুল হক।
আইনজীবীরা হরতালের দিন ট্রাইবু্যনালে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলে তাদের তা দেওয়ার বিষয়টি প্রসিকিউশনকে নিশ্চিত করতে বলেন বিচারক।
আসামি পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইবু্যনাল-২ এ জামায়াত নেতা মো. কামারুজ্জামান ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে মামলারও শুনানি হয়নি গতকাল।
সকালে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল-২ এর কার্যক্রম শুরু হলে আলীমের আইনজীবী না আসার বিষয়টি ট্রাইবু্যনালের দৃষ্টিতে আনেন প্রসিকিউটররা।
এ দু'টি মামলার শুনানির জন্যও ২০ মে দিন রাখা হয়েছে।


শেষ পাতা

শেষ কলাম

সংবাদ

ভিনদেশ

কৃষি শিল্প বাণিজ্য

খেলার সময়

সংবাদ

উপ সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়


Webmail ©Daily Bangladesh Shomoy Developed by: Arfitech.com